আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোটেক

এক গাছে পাঁচবার ধান!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের কানিহাটি গ্রাম। কৃষিনির্ভর এ গ্রামের দিগন্তজোড়া মাঠে এখন ধানক্ষেত। শিশির ভেজা বাতাসে দুলছে সোনালি ফসল। এই গ্রামেরই দুই বিঘা জমি ঘিরে টান টান উত্তেজনা। কারণ এই জমির ধান সাধারণ নয়, এই ধান ভিন্ন প্রকৃতির। বিস্ময়জাগানো পাকা এ ফসল কাটা হবে আর কয়েকদিন পর। তখন নিভৃত কানিহাটি গ্রাম থেকে সৃষ্টি হবে নতুন এক ইতিহাস। একবার রোপণে এ ধানের গাছে বছরজুড়ে পাঁচবার ফলন এসেছে।

ধানের এ নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ধান গবেষক ও জিনবিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী। তিনি সমকালকে জানান, বোরো হিসেবে বছরের প্রথমে লাগানো এ ধান ১১০ দিন পর পেকেছে। ওই গাছেই পর্যায়ক্রমে ৪৫ দিন পরপর একবার বোরো, দু’বার আউশ এবং দু’বার আমন ধান পেকেছে।

এক গাছে পাঁচ ফলনের এমন ঘটনা পৃথিবীতে বিরল বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আবেদ চৌধুরী আছেন তার উদ্ভাবন আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টায়। তিনি ওই গাছেই ছয়বার ফসল তোলার গবেষণা চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি নতুন জাতের ধানটি সারাদেশেই চাষাবাদ সম্ভব কিনা তা যাচাই করবেন। এজন্য বিভিন্ন জেলায় এ ধানের পরীক্ষামূলক চাষ করবেন।

আবেদ চৌধুরীর ভাষ্য, কম সময়ে পাকা এই ধানের উৎপাদন বেশি, খরচও কম। তবে প্রথম ফলনের চেয়ে পরের ফলনগুলোতে উৎপাদন কিছুটা কম। কিন্তু পাঁচবারের ফলন মিলিয়ে উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।

কুলাউড়ার কানিহাটি গ্রামের সন্তান আবেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরি নিয়ে চলে যান অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার জাতীয় গবেষণা সংস্থার প্রধান ধানবিজ্ঞানী হিসেবে ধানের জিন নিয়ে গবেষণা করে কাটিয়ে দিয়েছেন ২০ বছর। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩০০ রকমের নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন। পেশাগত কারণে বিদেশের মাটিতে গবেষণা করলেও দেশে তার গ্রাম কানিহাটিতে গড়ে তুলেছেন খামার।

আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘আম-কাঁঠালের মতো বছরের পর বছর টিকে থাকার সৌভাগ্য ধান গাছের হয় না- এটা কোনোভাবেই মানতে পারছিলাম না। তাই নেমে পড়ি গবেষণায়।’

ধান গাছের দ্বিতীয় জন্ম নিয়ে ১৪ বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান আবেদ চৌধুরী। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে কানিহাটি গ্রামে ২৫ বর্গমিটারের একটি ক্ষেতে ২০টি ধানের জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করেন তিনি। এর মধ্যে চীন, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের ও স্থানীয় ধানের জাত ছিল। যে জাতগুলোর ধান পাকার পর কেটে নিয়ে গেলে আবার ধানের শীষ বের হয়, সেগুলো তিনি আলাদা করেন। এভাবে ১২টি জাত বের করেন। তিন বছর ধরে জাতগুলো চাষ করে দেখলেন, নিয়মিতভাবে এগুলো দ্বিতীয়বার ফলন দিচ্ছে। তারপর তিনি শুরু করেন একই গাছে তৃতীয়বার ফলনের গবেষণা। তাতেও সফল হলেন। কিন্তু এর মধ্যে চারটি জাত ছাড়া বাকিগুলো চতুর্থবার ফলন দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়।

আবেদ চৌধুরী জানান, চারটি জাত একই গাছ থেকে পাঁচবার ফলন দিচ্ছে। এই চারটি জাতের ওপর ১০ বছর ধরে চলছে গবেষণা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বোরো ধানের এই চারটি জাত দুই বিঘা জমিতে রোপণ করা হয়। পরিমাণমতো ইউরিয়া সার প্রয়োগ করা হয়। সঠিকভাবে সেচ ও পরিচর্যা করার পর ১১০ দিনের মধ্যে ৮৫ সেন্টিমিটার থেকে এক মিটার উচ্চতার গাছে ফসল আসে। পরে মাটি থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পরিকল্পিতভাবে ওই ধান কেটে ফেলা হয়।

মে মাসে প্রথম দিকে প্রথমবার কাটা ধানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে চার টন। তারপর থেকে ৪৫ দিন অন্তর প্রতিটি মৌসুমে হেক্টরপ্রতি কখনও দুই টন, কখনও তিন টন ফলন এসেছে। সবগুলো জাত হেক্টরপ্রতি প্রায় ১৬ টন ফলন দিয়েছে।

বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী বলেন, দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে জাতগুলো করা হয়েছে। স্থানীয় জাতের সঙ্গে বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল জাত এবং স্থানীয় জাতের সঙ্গে স্থানীয় হাইব্রিড জাতের সংকরায়ন ঘটানো হয়েছে। ১০-১২ বছর আগে এগুলো থেকে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয়বার ফলন দেওয়ার জন্য উপযোগী করে চিহ্নিত করা হয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশে হেক্টরপ্রতি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে তিন থেকে চার টন। গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে আবেদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর জন্য ঐতিহাসিক। আমার নিজ গ্রাম কানিহাটির কৃষকদের সমন্বয়ে আমি এটি করতে পেরেছি। সারা বছর যেহেতু ধান দিচ্ছে, সেহেতু বর্ষজীবী বলা যেতে পারে। কারণ একটি ঋতুর পরই সাধারণত ধানের জীবনের অবসান ঘটে। কিন্তু আমার উদ্ভাবিত ধান বোরা, আউশ ও আমন তিন মৌসুম বা পুরো বছর ধরে ফসল দিয়েছে।’

তিনি বলেন, সাধারণত ধান একবার লাগানো হয় এবং ১২০ দিন পর কাটা হয়। এভাবে আমাদের বোরো, আউশ ও আমন ধান আছে। আমার উদ্ভাবিত ধানগুলো লাগানো হয়েছে বছরের প্রথমে বোরো হিসেবে। তারপর একটি বোরো, দুটি আউশ এবং দুটি আমন দিয়েছে। যতবার ফসল কেটে ঘরে নেওয়া হয়েছে, ততবারই গাছটি আরও বেশি বড় হয়ে উঠেছে। এটি একটি যুগান্তকারী ফলাফল। এবার আর কয়েকদিন পর পঞ্চমবারের মতো ধান কেটে গাছগুলো রেখে দেওয়া হবে। এই গাছ থেকে আরও ফলন আনতে গবেষণা চলবে।

নতুন ধানের নামকরণ বিষয়ে আবেদ চৌধুরী বলেন, একই গাছের শরীর থেকে পাঁচবার ধান বেরিয়ে আসে। ফলে এই ধানের তিনি নাম দিতে চান ‘পঞ্চব্রীহি’। নামকরণের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ধানকে ব্রীহি বলা হয়। এটা যেহেতু পাঁচবার ফলন দিয়েছে, সেহেতু ‘পঞ্চব্রীহি’ নাম দিতে চাই। পরবর্তী ষষ্ঠবার ফল দিলে ষষ্ঠব্রীহি নামে নামকরণ করা যেতে পারে। তবে এই ধানের নাম এখনও তিনি চূড়ান্ত করেননি।

তিনি বলেন, বছরের যে কোনো সময়ে এ ধান রোপণ করা যায়। এখন পরের ধাপগুলোতে কিছুটা কম উৎপাদন হচ্ছে। আমার চেষ্টা থাকবে, আরও বেশি ফলন বের করার।

পঞ্চমবার ফলন দেওয়া ধান উদ্ভাবন সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে আবেদ চৌধুরী বলেন, এর আগে আমি অন্য ধানের জাত উদ্ভাবন করেছি। দু’বার ফসল হয়, এমন ধানও উদ্ভাবন করেছিলাম; যাকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ‘রাইস টুআইস’ বলেছে। আবার অনেকে ‘জীবন বর্ধিত ধান’ বলেছে। এই প্রথম সারা বছর ধরে আমার অন্য আরেকটি ধানের জাত মাঠে থাকল। এ ধানের চারা ৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে রোপণ করতে হয়। ফলে গাছটি মাটি থেকে ভালোভাবে শক্তি নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে এবং একটি ধান গাছ থেকে আরও বেশ কয়েকটি ধান গাছ গজাতে থাকে।

এই ধান পরিবেশবান্ধব উল্লেখ তিনি বলেন, কোনো একটি জমি যতবার চাষ দেওয়া হবে, ততবার মিথেন গ্যাস ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হবে। একবার চাষ দিয়ে দু’বার ফসল উৎপাদন করলে উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ার পাশাপাশি তা কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমিয়ে এনে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে।

ধানের এই জাতগুলোকে দেশের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আবেদ চৌধুরী জানান, এ ধানের বীজ সংগ্রহ সহজ। কৃষকরা নিজেরাই তা করতে পারবেন। অন্য ধানের মতো বীজতলায় রোপণের পর চারা তুলে চাষ করতে হয়।

তিনি বলেন, ‘আপাতত আমি নিজের খরচে কানিহাটিতে পরীক্ষামূলক চাষ করব। তারপর সারাদেশে চাষ করে দেখব। সারাদেশের ফলাফল বিশ্নেষণ করে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ধানের বীজ কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে ভাবব।’

আবেদ চৌধুরী অস্ট্রেলিয়ায় থাকলেও সবকিছু দেখার জন্য রাসেল মিয়া নামে একজনকে দায়িত্ব দিয়ে যান। রাসেল মিয়া বলেন, এ ধানে চিটা নেই। খরচ কম এবং ফলন বেশি। জমিতে রেড়ি করে বোরো রোপণের পর আর জমি রেড়ি করতে হয় না। নির্দিষ্ট একটা মাপে ধান কেটে নেওয়ার পর মোড়া অংশে লতাপাতা ও ঘাস বাছাই করে সার দিই। এটুকু করলেই আবার ধানের গাছ বাড়তে থাকে।

রাসেল জানান, যদি পোকামাকড়ে ধরে তাহলে সামান্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। এই ধান মেঘবৃষ্টি নষ্ট করতে পারে না। খুব শক্ত ধানের গাছ। এলাকার কৃষকরা এ ধানের ফলন দেখে চাষাবাদ করতে আগ্রহী হয়েছেন।

কুলাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মোমিন বলেন, এক গাছে পাঁচবার ধান উৎপাদন নতুন দেখেছি। এটি দেশের জন্য সুখবর। এই উদ্ভাবনের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানী ও বিশিষ্ট কৃষিবিদ ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম বলেন, পুনর্জন্ম পদ্ধতিতে একটি ধান গাছে চারবার ফলন আসা সম্ভব। তবে পাঁচবার ফলন বের করা একটু কঠিন।

ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলামের ভাষ্য, প্রথমবার ফলন আসার পর পরের বার ফলন কমতে থাকে। এ জন্য এটি এতটা লাভজনক নয়। ততদিনে এই ধান কেটে আরেকটি ফসল লাগালে লাভজনক হবে। এক গাছে সর্বোচ্চ দু’বার ফলন হলে ভালো। এ পদ্ধতিতে এখন ফল বাড়াতে আরও গবেষণা করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এটি জীনবিজ্ঞানীর কাজ নয়। ফলন বাড়ানোর বিষয়ে কৃষিতত্ত্ববিদ ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা গবেষণা করতে পারেন। মাটি, গাছ, প্রজনন, বায়োকেমেস্ট্রি ও জিনসহ সব ব্যবস্থাপনা দেখতে হবে। আবেদ চৌধুরী শুধু জিনের অবস্থা দেখছেন। লাভক্ষতি হিসাব করতে হবে। শুধু উদ্ভাবন করলে হবে না, ফলন আশাব্যঞ্জক না হলে কৃষক তা নেবেন না।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক কৃষিবিজ্ঞানী ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, একটি ধানের গাছ থেকে একাধিকবার ফসল সম্ভব, কিন্তু ফলন কম হবে। এটি টেকসই কোনো উদ্ভাবন নয়। যেখানে আমরা জমিতে আরও বেশি উৎপাদনের চেষ্টা করছি, সেখানে তিনি খরচ বাঁচানোর জন্য উৎপাদন কমনোর প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে তো লাভ নেই। এসব বিষয় নিয়ে আবেদ চৌধুরীর সঙ্গে আমরা একাধিকবার কথা বলেছি। তাকে আমরা দাওয়াত দিয়েছি, কিন্তু তিনি আসেন না। আমরা তো বিজ্ঞান নিয়েই ৫০ বছর ধরে চর্চা করছি। ধানের ফলন বাড়ানোসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছি।

ড. আবেদ চৌধুরী বংশগতিবিষয়ক গবেষক। একদল অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীর সঙ্গে তিনি ফিস (ইন্ডিপেনডেন্ট সিড) জিন আবিস্কার করেন। তিনি লাল রঙের চাল ও রঙিন ভুট্টাও উদ্ভাবন করেছেন। তার ডায়াবেটিস ও ক্যান্সার প্রতিরোধক রঙিন ভুট্টা বিশ্বব্যাপী আলোচিত। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদন ও ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে গবেষণা করছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

জমি ও কৃষক ছাড়াই কৃষিতে বিপ্লব: জাপানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির গল্প

জমি ও কৃষক ছাড়াই কৃষিতে বিপ্লব: জাপানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির গল্প ???
জমি ও কৃষক ছাড়াই কৃষিতে বিপ্লব: জাপানের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির গল্প

জাপান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের এক অন্যতম শীর্ষ দেশ, যেখানে কৃষিকাজের প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়ে সৃষ্টি করছে নতুন কৃষি বিপ্লব। জমি ও কৃষকের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে জাপান আধুনিক কৃষিকাজকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিচ্ছে। এটি শুধু কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ায় না, বরং বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখছে।

কৃষিতে জাপানের নতুন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

১. ভর্তুকিহীন ভার্টিক্যাল ফার্মিং

  • জমির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে বহুতল ভবনে ফসল উৎপাদন।
  • অটোমেটেড লাইটিং এবং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাষ।
  • পানি ব্যবহারে ৯০% সাশ্রয়।

২. রোবটিক কৃষি প্রযুক্তি

  • ফসল রোপণ, তোলা, এবং সংরক্ষণে রোবটের ব্যবহার।
  • শ্রমিকের সংখ্যা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানো।
  • চাষের সময় ও শ্রমের খরচ প্রায় ৫০% হ্রাস।

৩. এআই এবং ড্রোন-নির্ভর চাষাবাদ ✈️

  • ফসলের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, আগাছা শনাক্ত, এবং জমির বিশ্লেষণে ড্রোন ব্যবহার।
  • এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের সঠিক পূর্বাভাস।

৪. জলবিহীন কৃষি (হাইড্রোপনিক্স ও অ্যাকুয়াপনিক্স)

  • মাটি ছাড়াই ফসল উৎপাদন।
  • জলের মাধ্যমে পুষ্টি সরবরাহ করে দ্রুত ফলন।
  • পরিবেশবান্ধব ও টেকসই চাষাবাদ।

৫. অটোমেটেড গ্রিনহাউস প্রযুক্তি

  • স্বয়ংক্রিয় তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং আলো নিয়ন্ত্রণ।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা।

জমি ও কৃষক ছাড়াই কৃষির উপকারিতা

১. সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার:

ভার্টিক্যাল ফার্মিং এবং জলবিহীন চাষ পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় বেশি ফসল উৎপাদন।

২. টেকসই উৎপাদন:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে উচ্চ ফলন নিশ্চিত।

৩. খাদ্য সংকট সমাধান:

জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে খাদ্যের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখা।

৪. দ্রুত উৎপাদন চক্র:

টেকনোলজির ব্যবহারে চাষাবাদের সময় ৩০-৪০% কমিয়ে আনা।

৫. কম খরচে বেশি লাভ:

মানব শ্রমের পরিবর্তে রোবটিক প্রযুক্তি এবং ড্রোন ব্যবহার করে খরচ কমানো।

জাপানের কৃষি বিপ্লব বিশ্বকে কী বার্তা দিচ্ছে

১. খাদ্য নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ভূমিকা:

জাপানের উদ্ভাবন দেখাচ্ছে কীভাবে প্রযুক্তি বিশ্বের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে পারে।

২. জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান:

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকাজকে পরিবেশবান্ধব এবং কার্বন নির্গমনহীন করা।

৩. উদ্ভাবনী চাষাবাদের অনুপ্রেরণা:

উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এটি এক মডেল হতে পারে, যা সীমিত সম্পদে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারে।

বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা

জাপানের উদ্ভাবনী পদ্ধতি থেকে বাংলাদেশ শিখতে পারে কীভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে জমি ও কৃষকের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আধুনিক কৃষিকাজ করা যায়। বিশেষ করে, ভার্টিক্যাল ফার্মিং এবং রোবটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শহুরে কৃষি খাতে বিপ্লব আনা সম্ভব।

আপনার ভবিষ্যৎ কৃষি এখনই শুরু হোক!

জাপানের মতো উদ্ভাবনী প্রযুক্তি গ্রহণ করে আপনার চাষাবাদকে আরও লাভজনক, পরিবেশবান্ধব এবং আধুনিক করুন। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি হোক আপনার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি! ?✨

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি, স্মার্ট ভবিষ্যৎ!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা
বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

লাগাতার বৃষ্টি ও জল জমে চাষের জমি প্রায় নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি নষ্ট হয়ে যায় বীজতলাও। এগুলি পুনরায় তৈরী করাও বেশ কষ্টসাধ্য। ফলত, চাষীদের মাথায় হাত পরে যায়। তাই কৃষি বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার “ড্রাম সিডার” যন্ত্র এরম অবস্থায় কৃষকদের সহায়তা করার একমাত্র পন্থা। এই যন্ত্রের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা তৈরী করা যায়।

বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা
বর্ষায় চাষের জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা

 ড্রাম সিডার কি(What is Drum Seeder)?

ড্রাম সিডার প্লাস্টিকের তৈরি ছয়টি ড্রাম বিশিষ্ট একটি আধুনিক কৃষি বপণ যন্ত্র। প্লাস্টিকের তৈরি ড্রামগুলো ২.৩ মিটার প্রশস্ত লোহার দন্ডে পরপর সাজানো থাকে। লোহার দন্ডের দুপ্রান্তে প্লাস্টিকের তৈরি দুটি চাকা এবং যন্ত্রটি টানার জন্য একটি হাতল যুক্ত থকে। প্রতিটি ড্রামের দৈর্ঘ্য ২৫ সেন্টিমিটার এবং ব্যাস ৫৫ সেন্টিমিটার এবং এর দু’প্রান্তে ২০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুসারি ছিদ্র আছে। প্রয়োজনে রাবারের তৈরি সংযুক্ত বেল্টের সাহায্যে এক সারি ছিদ্র বন্ধ রাখা যায়।

ড্রাম সিডারের সুবিধা(Benefits of Drum Seeder):

এ যন্ত্রের সাহায্যে কাদা মাটিতে অঙ্কুরিত বীজ সারি করে সরাসরি বপণ করা যায়। ফলে আলাদা করে আর বীজতলা তৈরি, চারা উত্তোলন ও রোপণ করতে হয় না | যার ফলে শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় অনেকটা কমে যায় | এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান ও অন্যান্য সব্জি চাষ (vegetables cultivation) সহজে করা যায় | এই যন্ত্রের মাধ্যমে ধানের বীজ বপণ করলে বীজের পরিমাণ ৩০ শতাংশ কম লাগে। সারিবদ্ধ ও সার্বিক ঘনত্ব অনুযায়ী বীজ বপণের কারণে জমিতে নিড়ানিসহ অন্যান্য পরিচর্যা অনেক সহজ হয় এবং রোগপোকার উপদ্রপ কম হওয়ায় ফসলের ফলন গড়ে ২০- ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। সর্বোপরি, এই যন্ত্র হালকা হওয়ায় সহজেই বহনযোগ্য | ১ জন লোক ঘণ্টায় অন্তত ১ বিঘা জমিতে বীজ বপণ করতে পারে।

আগাছা পরিষ্কার(Weed management):

ড্রাম সিডার যন্ত্রে বীজ বপণ করলে আগাছা দমন সহজ হয়। আগাছা দমনের জন্য আগাছানাশকও ব্যবহার করা যেতে পারে। জমিতে কম জল দাঁড়ানো থাকা অবস্থায় আগাছানাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং পরের ৩-৫ দিন অবশ্যই হালকা জল রাখতে হবে | যে জমিতে আগাছা কম হয় সেখানেই ড্রাম সিডার পদ্ধতি ব্যবহার করাই ভালো এবং আগাছা বেশি হলে পরিষ্কার করা জরুরি |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

বর্তমান যুগে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এরই একটি উদাহরণ হলো টানেল টেকনোলজি। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যেখানে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সবজি এবং অন্যান্য ফসল চাষ করা হয়। টানেল টেকনোলজি শুধুমাত্র ফসলের উৎপাদন বাড়ায় না, বরং কৃষকের জন্য এটি অধিক লাভজনকও।

টানেল টেকনোলজির ধারণা ও এর কার্যপ্রণালী

টানেল টেকনোলজি মূলত প্লাস্টিক বা পলিথিন দিয়ে তৈরি অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি কাঠামো। এর ভেতরে ফসল চাষ করে কৃষক একটি নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া তৈরি করতে পারেন। এই কাঠামো শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা থেকে ফসলকে সুরক্ষিত রাখে। টানেল ব্যবস্থায় চাষাবাদের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং আলো সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

টানেল নির্মাণের ধাপসমূহ

স্থান নির্বাচন:

  • উর্বর মাটি এবং পর্যাপ্ত আলোযুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে।
  • বন্যা বা পানির স্থায়িত্ব নেই এমন স্থান টানেল তৈরির জন্য উপযুক্ত।

মাটি প্রস্তুত করা:

  • জমিকে ভালোভাবে চাষ করে মাটি সমতল করতে হবে।
  • জৈব সার এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হবে।

টানেলের কাঠামো তৈরি:

  • বাঁশ, লোহার পাইপ বা পিভিসি দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়।
  • এর উপরে UV-প্রতিরোধী পলিথিন বা প্লাস্টিক দিয়ে আবৃত করা হয়।

বীজ বপন বা চারা রোপণ:

  • নির্ধারিত দূরত্বে বীজ বপন করতে হবে।
  • চারা রোপণের সময় ফসলের প্রয়োজন অনুযায়ী সারি এবং ফাঁক নির্ধারণ করতে হবে।

পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণ:

  • নিয়মিত জলসেচ, আগাছা পরিষ্কার এবং পোকামাকড় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
  • ভেতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে চাষের উপযুক্ত সবজি

  • টমেটো: উচ্চ ফলনের জন্য টানেল টেকনোলজির অন্যতম জনপ্রিয় ফসল।
  • শসা: গ্রীষ্মকালীন সবজি হলেও টানেলের মাধ্যমে এটি সারা বছর চাষ করা যায়।
  • ক্যাপসিকাম (বেল পেপার): রঙিন ক্যাপসিকাম টানেলের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ভালো ফলন দেয়।
  • লেটুস এবং ব্রকলি: স্যালাডের উপাদান হিসেবে জনপ্রিয় এসব ফসলের চাষে টানেল কার্যকর।
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

টানেল টেকনোলজির উপকারিতা

আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের সুবিধা:

টানেল প্রযুক্তি ফসলকে প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা যেমন অতিরিক্ত ঠাণ্ডা, বৃষ্টি এবং তাপদাহ থেকে রক্ষা করে।

অফ-সিজন চাষের সম্ভাবনা:

টানেল ব্যবহারে অফ-সিজন ফসল চাষ করা সম্ভব, যা কৃষকদের উচ্চ বাজারমূল্য অর্জনে সহায়ক।

ফসলের উচ্চ ফলন:

নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদের ফলে ফসলের উৎপাদন ৩০-৫০% পর্যন্ত বাড়তে পারে।

পোকামাকড় ও রোগ প্রতিরোধ:

টানেলের ভেতর পোকামাকড়ের সংক্রমণ কম হয়, ফলে কীটনাশকের ব্যবহারও কমে।

জল ব্যবস্থাপনা:

টানেলের নিয়ন্ত্রিত সেচ ব্যবস্থা জল অপচয় রোধ করে এবং মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে।

উন্নত মানের ফসল:

নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদ করার কারণে ফসলের মান উন্নত হয় এবং বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

বহুমুখী চাষাবাদ:

একসাথে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি ও ফল উৎপাদন করা যায়, যা কৃষকের আয় বাড়াতে সহায়ক।

টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি
টানেল টেকনোলজির মাধ্যমে সবজি উৎপাদন একটি আধুনিক কৃষি পদ্ধতি

টানেল টেকনোলজি: কৃষির ভবিষ্যৎ

টানেল টেকনোলজি শুধু কৃষি উৎপাদনের একটি পদ্ধতি নয়, এটি একটি বিপ্লব। এই প্রযুক্তি কৃষকদের আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করতে এবং টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এটি শহরের কাছে অবস্থিত গ্রামীণ কৃষকদের জন্য একটি চমৎকার উপায়, কারণ তারা সারা বছর চাহিদামতো ফসল উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ করতে পারে।

টানেল টেকনোলজির সাহায্যে সবজি উৎপাদন একটি অত্যন্ত কার্যকরী এবং লাভজনক চাষাবাদ পদ্ধতি। এটি শুধুমাত্র ফসলের উৎপাদন বাড়ায় না, বরং কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রতি মনোযোগী হয়ে, টানেল প্রযুক্তি গ্রহণ করা কৃষকদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সফলতার দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ড্রাম সিডার: আপনার কৃষি জমিকে করুন লাভজনক এবং উৎপাদনশীল!

ড্রাম সিডার: আপনার কৃষিজমিকে করুন লাভজনক এবং উৎপাদনশীল!
ড্রাম সিডার: আপনার কৃষিজমিকে করুন লাভজনক এবং উৎপাদনশীল!

কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ড্রাম সিডার যন্ত্র এর মধ্যে অন্যতম, যা চাষাবাদকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী করে তোলে। জমিতে সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে বীজ বপনের জন্য ড্রাম সিডার একটি কার্যকর সমাধান।

ড্রাম সিডার যন্ত্র কী?

ড্রাম সিডার একটি আধুনিক বীজ বপন যন্ত্র যা কৃষকদের বীজ ছিটানোর কাজ সহজ করে। এটি জমিতে সমানভাবে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে বীজ বপন করে, যা ফলনের গুণগত মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

ড্রাম সিডার যন্ত্র কী?
ড্রাম সিডার যন্ত্র কী?

ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা ?

১. সময় এবং শ্রম সাশ্রয়:

  • দ্রুত এবং সমানভাবে বীজ বপন করার জন্য ড্রাম সিডার নিখুঁত।
  • প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় এটি সময়ের অর্ধেক এবং শ্রমের ৩০% পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারে।

২. বীজের অপচয় রোধ:

  • বীজ সঠিক পরিমাণে এবং নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিটানোর মাধ্যমে অপচয় কমায়।
  • সঠিকভাবে বপনের কারণে বীজের বৃদ্ধি ভালো হয়।

৩. ফসলের গুণগত মান বৃদ্ধি:

  • সমান দূরত্বে বপন হওয়ায় গাছগুলোর পুষ্টি সমানভাবে পায়।
  • জমিতে ফলনের পরিমাণ ও গুণগত মান বাড়ে।

৪. কম খরচে অধিক উৎপাদন:

  • জমির মাটির গঠন অনুযায়ী বীজ ছিটানোর ফলে সার, পানি এবং কীটনাশকের ব্যবহার কম হয়।
  • ফলে উৎপাদন খরচ কমে যায় এবং লাভের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।

৫. বহুমুখী ব্যবহার:

  • ধান, গম, পাট, সরিষা সহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপনে উপযোগী।
  • ছোট এবং বড় কৃষিজমি উভয়ের জন্য উপযুক্ত।
ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা ?
ড্রাম সিডার যন্ত্র ব্যবহারের সুবিধা ?

ড্রাম সিডার যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য ?

  • সহজ নকশা: ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ।
  • টেকসই নির্মাণ: দীর্ঘস্থায়ী এবং মজবুত।
  • পোর্টেবল: সহজে বহনযোগ্য।
  • কম জ্বালানি খরচ: সাশ্রয়ী কার্যক্ষমতা।

কেন জমিতে ড্রাম সিডার ব্যবহার করবেন? ?

  • জমির উর্বরতা বাড়ানোর জন্য সঠিক বপন নিশ্চিত করে।
  • বীজ, সার, এবং কীটনাশকের অপচয় কমায়।
  • ফলনের সময় কমিয়ে দ্রুত ফলন সংগ্রহের সুযোগ দেয়।
  • পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, যা মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

ড্রাম সিডার: কৃষি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ?

ড্রাম সিডারের ব্যবহার শুধুমাত্র কৃষকদের কাজ সহজ করছে না, এটি তাদের লাভের পথও প্রশস্ত করছে। প্রযুক্তি নির্ভর চাষাবাদ কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, লাভজনক এবং টেকসই করে তুলছে।

জমিতে ড্রাম সিডার যন্ত্রের ব্যবহার: কম খরচে অধিক ফলনের আধুনিক সমাধান! ??

এখনই ড্রাম সিডার ব্যবহার শুরু করুন এবং কৃষি জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া আনুন। ?

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার: ফলনের গুণগত মান ও পরিমাণ বাড়ানোর সেরা উপায়!

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার: ফলনের গুণগত মান ও পরিমাণ বাড়ানোর সেরা উপায়!
ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার: ফলনের গুণগত মান ও পরিমাণ বাড়ানোর সেরা উপায়!

ফল বাগানের যত্ন নেওয়া মানে শুধু ফসল উৎপাদন নয়, এটি সুস্থ এবং রোগমুক্ত গাছ নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উপায়। সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহার করলে কীটপতঙ্গ, ছত্রাক, এবং অন্যান্য রোগ থেকে গাছকে রক্ষা করা সহজ হয়। এতে ফলনের গুণগত মান ও পরিমাণ বাড়ে।

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ দিক

কীভাবে সঠিক স্প্রে যন্ত্র নির্বাচন করবেন?

স্প্রে যন্ত্রের ধরন বাছাই করুন: আপনার বাগানের আকার ও প্রকারের ওপর নির্ভর করে হ্যান্ড স্প্রে, ব্যাকপ্যাক স্প্রে, বা পাওয়ার স্প্রে নির্বাচন করুন।

স্প্রে নোজল ও ক্ষমতা: নোজলের ধরণ এবং স্প্রে করার ক্ষমতা ফসলের সঠিক সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

স্প্রে যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার

সময় নির্ধারণ করুন: স্প্রে করার জন্য সকাল বা সন্ধ্যার সময় বেছে নিন, যখন তাপমাত্রা কম থাকে।

ডোজের পরিমাণ: কীটনাশক বা সার মেশানোর সময় সঠিক নির্দেশনা মেনে চলুন।

সমানভাবে ছিটানোর কৌশল: গাছের প্রতিটি অংশে স্প্রে সঠিকভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করুন।

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা

  • প্রতিবার ব্যবহারের পর যন্ত্র পরিষ্কার করুন।
  • সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন যাতে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের উপকারিতা
ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের উপকারিতা

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের উপকারিতা

গাছের রোগ প্রতিরোধ:

  • কীটপতঙ্গ ও ছত্রাক থেকে গাছকে সুরক্ষা দেয়।
  • ফলের গুণগত মান বজায় থাকে।

উচ্চ ফলন নিশ্চিত:

  • পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ফলনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
  • কম খরচে অধিক উৎপাদন।

শ্রম ও সময় সাশ্রয়:

  • উন্নত স্প্রে যন্ত্রের মাধ্যমে কম সময়ে পুরো বাগানে স্প্রে করা যায়।
  • গাছের প্রয়োজন অনুযায়ী স্প্রে প্রয়োগ সহজ হয়।

পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি:

  • সঠিক ডোজ ব্যবহার করে রাসায়নিক অপচয় রোধ করা যায়।
  • বাগানের পরিবেশ স্বাস্থ্যকর থাকে।
আপনার ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের জন্য টিপস
আপনার ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের জন্য টিপস

আপনার ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্র ব্যবহারের জন্য টিপস

  • বিভিন্ন গাছের জন্য আলাদা স্প্রে নোজল ব্যবহার করুন।
  • প্রাকৃতিক কীটনাশক ও জৈব সার স্প্রে করার চেষ্টা করুন।
  • বছরে একাধিকবার স্প্রে যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন।
  • কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিন যাতে তারা দক্ষতার সঙ্গে যন্ত্র ব্যবহার করতে পারে।

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ভবিষ্যৎ

উন্নত প্রযুক্তির স্প্রে যন্ত্র ব্যবহার কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। অটোমেটেড ও ড্রোন স্প্রে যন্ত্র ভবিষ্যতে কৃষি খাতকে আরও উন্নত করবে, যা ফল উৎপাদনের খরচ কমিয়ে দেবে এবং মান বৃদ্ধি করবে।

আপনার ফল বাগানকে উন্নত করুন সঠিক স্প্রে যন্ত্র দিয়ে!

ফল বাগানে সঠিক স্প্রে যন্ত্রের ব্যবহার আপনার ফসলকে রোগমুক্ত, পুষ্টিসমৃদ্ধ, এবং উচ্চ মানের করবে। এখনই সঠিক যন্ত্র ব্যবহার শুরু করে আপনার বাগানকে আরও লাভজনক করুন।

ফলন বাড়ান, গুণগত মান নিশ্চিত করুনসঠিক স্প্রে যন্ত্রে আপনার বাগান হোক আদর্শ!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ