আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

বদলে যাওয়া গ্রাম-বাংলার নিত্যসারথী শাইখ সিরাজ

সেই কবে থেকে দেখছি কৃষি ও কৃষকের বদলে যাওয়া জীবন ও জীবিকার নিবেদিত এক পালাকার হিসেবে। শহরে বাস করেও তিনি গ্রামবাংলার নিত্যসারথী। বলেই চলেছেন মাটি ও মানুষের গল্প। প্রথম দেখা বাংলাদেশ টেলিভিশনে। আমরা দুজনেই তখন বয়সে তরুণ। প্রযুক্তির ব্যবহারে কী করে গ্রামের অর্থনীতি পাল্টে দেয়া যায়, সর্বক্ষণ সেই চিন্তায় বিভোর থাকেন শাইখ। কতো জায়গায় গিয়েছি এক সঙ্গে গ্রামের আধুনিক কৃষির অভিযাত্রা দেখতে। আমিও গ্রামীণ অর্থনীতির পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করি। নীতি অ্যাডভোক্যাসি করি। শাইখের সাথে আমার মনের মিল অনেকটাই। তিনি কৃষককে শুধু উৎপাদক হিসেবে দেখেন না। তারাও মানুষ। তাদেরও দুঃখ আছে। আছে আনন্দ। তাই তো তিনি তাদের ঈদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ দেখতে পান তাদের নৌকাবাইচে, হাডুডু খেলাতে কিংবা লাঠি খেলাতে। আমিও কৃষকদের দেখে থাকি সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিতে। তাদেরও স্বপ্ন আছে। তাদের সন্তানেরাই যে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় করে বাংলাদেশের বহিঃঅর্থনীতিকে এতোটা চাঙ্গা রেখেছে। এই করোনাকালে তারাই আমাদের অর্থনীতির প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে আমাদের কৃষক ও কৃষক সন্তানেরা যন্ত্রকে গ্রহণ করেছে বলে। আধুনিকায়নের ছোঁয়া যে লেগেছে গ্রামবাংলায় সে গল্প তো আমরা নিরন্তর শাইখ সিরাজের মুখেই শুনে আসছি।

রবীন্দ্রনাথ বলে গেছেন- “মানুষের কর্মশক্তির বাহন যন্ত্রকে যে জাতি আয়ত্ব করতে পারেনি সংসারে তার পরাভব অনিবার্য, যেমন অনিবার্য মানুষের কাছে পশুর পরাভব”। (রবীন্দ্রনাথ, ‘সমবায়নীতি, রবীন্দ্র রচনাবলী, চতুর্দশ খ-, পৃষ্ঠা : ৩২৭)। এই প্রযুক্তির কল্যাণেই যে আমাদের গ্রামবাংলা দ্রুতই বদলে যাচ্ছে সে কথা তো অস্বীকার করবার উপায় নেই। আজ থেকে প্রায় চল্লিশ বছর আগে আমি কয়েকটি গ্রামে সমীক্ষা করেছিলাম। আমার পিএইচডি থিসিসের জন্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্যে ঐ সমীক্ষা চালিয়েছিলাম। সমীক্ষার তথ্যসমূহ পরবর্তী সময়ে আমার একটি বইতেও ছাপা হয়েছিল। আশির দশকের শুরুর সেই গ্রাম-বাংলাকে এখন আর মনে হয় চেনাই যায় না। পুরো গ্রামে সেদিন একটিও কলের লাঙ্গল  ছিল না। থ্রেসারের তো প্রশ্নই ছিল না। সেচযন্ত্র সবে প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করেছে। উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষককূল। গ্রামে তখনও বিদ্যুৎ তেমন ছিল না। আশেপাশের বাজারে গাছের চারা বিক্রি হতো না। সবজির চাষ ছিল খুবই সামান্য। রপ্তানি দূরের কথা, স্থানীয় বাজারে বেশি পরিমাণে সবজি বিক্রি করার মতো বাণিজ্যিক বুদ্ধি কৃষকের মাথায় তখনও সেভাবে আসেনি। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হাঁস-মুরগি ও মাছের চাষও আমার সমীক্ষা করা গ্রামে দেখিনি। মানুষ তার দু’টো হাত, পুরোনো লাঙ্গল, জোড়া বলদ নিয়েই ব্যস্ত। চাষবাসের নয়া প্রযুক্তি, নয়া ভাবনা থেকে তখনও বহুদূরে । আর গ্রাম থেকে বিদেশে গিয়ে প্রবাসী হবার চলও ছিল খুবই সামান্য। তাই বলা চলে গ্রামবাংলা তখনও নিশ্চল। তবে প্রযুক্তির প্রসার কোন কোন গ্রামে হতে শুরু করেছে। ব্যতিক্রম কুমিল্লা। বার্ডের উদ্যোগে অনেক কৃষক সেচ যন্ত্র ও কলের লাঙ্গলের সাথে পরিচিত হয়েছেন। সারা দেশের কথা হিসেবে নিলে এই ক’টি গ্রাম দলছুটই বলা চলে।

কিন্তু আমার গবেষণার সেই নিশ্চল গ্রাম আজ আর খুঁজে পাই না। নানা ধরনের পরিবর্তন এসেছে ঐ গ্রামে। কলের লাঙ্গল ডজন খানিক। থ্রেসার অনেকগুলো। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাছ ও মুরগির চাষ করছেন অনেকেই। বিদ্যুৎ আসার কারণে অনেকের ঘরেই টেলিভিশন। বর্ষাকালে অনেক মানুষ হাট থেকে চারা কিনে বপন করে থাকেন। ক্ষুদ্র ঋণের প্রসার ঘটেছে। পাশের হাটে শত শত ট্রাক আসে ধান, চাল, সব্জি নেবার জন্যে। ঐ গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে এখন বিদেশে। কেউ পড়ছে, কেউ কাজ করছে। অবশ্যি সকলের ঘরেই আধুনিক প্রযুক্তির সাফল্য না পৌঁছালেও তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার অনেকটাই ঘটেছে। মোবাইল ফোনের ব্যবহার বেড়েছে। গ্রামেও ফেইসবুক সক্রিয়। বিউটি পার্লার, ডেকোরেটর, কফিশপের দেখা মেলে। দারিদ্র্য বেশ কমেছে। সামাজিক সুরক্ষা অনেকখানি বিস্তৃত হয়েছে। গ্রামীণ ক্ষমতায় নয়া বিন্যাস ঘটেছে। দুর্নীতি গ্রামেও পৌঁছে গেছে। ভালো-মন্দ মিলেই গ্রাম আর শহরের সংযোগ অনেকটাই বেড়েছে।

একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় ও সমস্যাসংকুল গ্রামবাংলার এই বদলে যাবার প্রক্রিয়াটিকে দারুণ সাফল্যের সঙ্গে তুলে ধরেছেন যিনি তাঁর নাম ‘শাইখ সিরাজ’। বাংলাদেশ টেলিভিশনে ‘মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠান দিয়ে যার যাত্রা শুরু। শুরুতে তিনি যে আগ্রহ, নিষ্ঠা ও উদ্যম নিয়ে অনুষ্ঠানটির সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়েও এই ধারা তিনি অব্যাহত রেখেছেন। প্রাইভেট টেলিভিশন ‘চ্যানেল আই’ এর তিনি মাত্র একজন উদ্যোক্তা পরিচালক নন। এই চ্যানেলের ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ নামের অনুষ্ঠানে গ্রাম-বাংলার কৃষিভিত্তিক নানা উদ্যোগ ও সৃজনশীলতাকে সক্রিয় মদত দিয়ে চলেছেন। আমি তাঁর দুই পর্বের দুই অনুষ্ঠানেই অংশগ্রহণ করেছি এখনও করছি। এছাড়া আরও অনেক অনুষ্ঠান তার সঙ্গে করবার সুযোগ আমার হয়েছে। সর্বশেষ ‘কৃষির বাজেট কৃষকের বাজেট’ বিষয়ে অনুষ্ঠান করতে কুমিল্লার এক গ্রামেও গিয়েছিলাম। আরো গিয়েছিলাম রাজবাড়ির একটি গ্রামে। বাজেট নিয়ে সমুন্নয়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও আরও কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে কাজ করেছি। গভর্নর হিসেবেও তাঁর সঙ্গে বেশ কটি এলাকা সফর করেছি কৃষি ঋণের প্রসার ঘটানোর জন্যে । আমি সফল কৃষকদের সন্ধান তাঁর মাধ্যমেই পেয়েছি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ নীতিমালা প্রণয়নে তাঁর অকুন্ঠ সমর্থন পেয়েছি। সর্বক্ষণ তাঁর আন্তরিক সহযোগিতায় আমি মুগ্ধ।

আমি তাঁর কাছে আরও কৃতজ্ঞ অন্তত দুটো কারণে। তিনিও রবীন্দ্রভক্ত। আমিও। আমি রবীন্দ্রনাথের কৃষি ভাবনা ও কর্ম নিয়ে কিছু করেছি বলে তাঁর চ্যানেল আই থেকে রবীন্দ্র পদকে ভূষিত করেছেন। গভর্নর থাকাকালে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে কিছু নয়া রেগুলেশন দিয়েছি বলে আবারও তাঁর চ্যানেল আই আমাকে আজীবন সন্মাননা দিয়েছে। তাঁর এবং তাঁর সহযোগীদের এই বদান্যতায় আমি সত্যি আপ্লুত। উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করার তাঁর এই প্রচেষ্টা সারাটা জীবন ধরেই দেখে আসছি। তাঁর নানা মাত্রিক সৃজনশীল অনুষ্ঠানে সুযোগ পেলেই তিনি আমাকে যুক্ত করেন। সেজন্য তাঁর প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

এসব অনুষ্ঠান ছাড়াও ব্যক্তিগত যে যোগাযোগ তাঁর সঙ্গে আমার গড়ে উঠেছে, তাতে আমার দৃঢ় আস্থা জন্মেছে যে, তিনি বাংলাদেশের মূল শক্তিটি কোথায় তা ধরতে পেরেছেন। গার্মেন্টসের পর কৃষিই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে, সে সম্ভাবনার সূত্রটি ঠিকই ধরতে পেরেছেন। একই সঙ্গে দেশের ভেতরের সবচেয়ে বেশি মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষমতা এই খাতেরই রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যে কারণে কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানো খুবই জরুরি। আর তাই কৃষির উন্নয়নে বেশি বেশি গবেষণা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। নয়া প্রযুক্তির কৃষির কারণে জনস্বাস্থ্য যাতে বিঘ্নিত না হয় সে রকম আইনী রক্ষাকবচের কথাও তিনি বারেবারে বলে চলেছেন। এই প্রেক্ষাপটে অস্বীকার করবার উপায় নেই যে জৈব-নিরাপত্তা আইনটির গুরুত্ব অসীম। পাশাপাশি প্রয়োজন কৃষির বহুমুখীকরণ। এজন্যে চাই প্রয়োজনীয় গবেষণা, সম্প্রসারণ, বাজারজাতকরণ এবং পুঁজি সমর্থন। প্রয়োজন শস্য গুদামের, বিদ্যুতের এবং পরিবহনের। এসব কিছু করতে হলে চাই প্রয়োজনীয় নীতি সংস্কারের। আর এসব কথা নীতিনির্ধারকদের হরহামেশা স্মরণ করিয়ে দেন শাইখ সিরাজ। কৃষিতে পাশের দেশ ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম কি করছে তাও আমাদের জানতে সাহায্য করছেন শাইখ। আর যে কারণেই শাইখ সিরাজ তার নতুন পর্যায়ের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’কে এমনভাবে সাজিয়েছেন যাতে নীতি-নির্ধারকরা অন্যদেশের সাফল্যের ধারাটা বুঝতে পারেন। যে কারণেই তিনি ছুটে যান বিদেশের কৃষকদের কাছে। চীন, ভিয়েতনাম কী করে কৃষির উৎপাদনশীলতা এতো দ্রুত বাড়ালো, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কীভাবে করলো সেসব বিষয় স্বচোখে দেখেছেন এবং তা  তিনি ক্যামেরাবন্দি করেছেন। তাঁর অনুষ্ঠানের কল্যাণে আমরাও এসব সাফল্যের কাহিনী জানতে পেরেছি। তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পরিকল্পিত উপায়ে বীজ বপনের জন্য ‘ড্রাম সিডার’ ভিয়েতনাম থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং তার ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্যে জনমত গড়ে তুলেছেন। লিফ কালার চার্ট ব্যবহার করে জমিতে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কী করে কমানো যায় সে বিষয়ে জনমত গড়ে তুলেছেন।

শুধু বিদেশের সাফল্য কেন, দেশের ভেতরেও যেসব প্রযুক্তিগত সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে সেগুলোর কথাও তিনি তাঁর অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন। যেমন হরি ধানের উদ্ভাবনে এদেশের সফল উদ্যোক্তা হরিবাবুকে শুধু টেলিভিশনের পর্দায় তুলে আনেননি,তাকে পুরস্কৃত করারও উদ্যোগ নিয়েছেন। এদেশের সাধারণ মানুষ যেন কৃষি ও কৃষককে ভালোবাসেন সে জন্য রচনা প্রতিযোগিতা, কৃষকের বিশ্বকাপ নামের অনুষ্ঠানসহ নানামাত্রার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। শাইখের বয়স বাড়ছে কিন্তু ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ এর টানে তিনি সর্বক্ষণ গ্রাম-বাংলা চষে বেড়াচ্ছেন। সারারাত গাড়িতে ভ্রমণ করে দূরে চলে যাচ্ছেন, অনুষ্ঠান রেকর্ড করে ফের পরের রাতে ঘরে আপনজনদের কাছে ফিরছেন। সংসারের আপনজনদের বঞ্চিত করে তিনি এদেশের কৃষকদের আপন করে নিয়েছেন। প্রতিবারই প্রাক-বাজেট পর্বে তিনি সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে যেভাবে কৃষকদের সঙ্গে বাজেট বিষয়ে আলাপ করেন, তাদের মতামত নেন, আমাদের এর সঙ্গে যুক্ত করেন । পুরো উদ্যোগটিই প্রশংসনীয়। এক ধরনের অঙ্গীকার ছাড়া এমন করে নিজেকে প্রান্তের মানুষজনের পক্ষে যে দাঁড়া করানো যায় না শাইখ সিরাজ তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ। এমন নিবেদিত প্রাণ একজন মানুষের জন্যে আমরা এদেশে ঘরে ঘরে গাছ লাগানো, ছাদে বাগান করা, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৎস্য ও হাঁস-মুরগির খামার গড়ে ওঠার আন্দোলন প্রত্যক্ষ করছি। তাঁর অনুপ্রেরণায় বিদেশ থেকে অনেক প্রযুক্তিপ্রেমী শিক্ষিত কৃষি উদ্যোক্তা দেশে ফিরে মাল্টা, ড্রাগন ফলের চাষ করছেন। বিদেশি ও দেশি ফুলের বাগান করছেন। অল্প জায়গায় শিল্প কারখানার ভেতরও দেশি মাছের আধুনিক চাষ করছেন।

আসলে নানা সংস্কারে আচ্ছন্ন মানুষের মনকে বদলে দিতে পারলে, মানুষকে আরেকটু আশাবাদী ও উদ্যোগী করা গেলে দেশে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে বাধ্য তার প্রমাণ শাইখ নিরন্তর রেখে যাচ্ছেন। এই অক্লান্ত কর্মবীরকে সরকার স্বাধীনতা পুরস্কারে পুরস্কৃত করেছে। ম্যানিলা ভিত্তিক গুসি আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন। আরও অসংখ্য পুরস্কারে তিনি পুরস্কৃত হয়েছেন। আজকাল একটি দৈনিকে উদ্ভাবনীমূলক ও আধুনিক কৃষি ও কৃষকের সাফল্য নিয়ে প্রায়ই লিখছেন। এর ফলে আমরা নয়াকৃষির অনেক অজানা তথ্য পাচ্ছি। শাইখ সিরাজের কাছে অনুরোধ লেখালেখির কাজটি ছাড়বেন না। তরুণ প্রজন্মের জন্য এসব লেখা খুবই প্রয়োজনীয় বলে আমার ধারণা।

উদ্যমী এই মানুষটির পথচলাকে আরেকটু স্বস্তিময় করে তোলার জন্যে আমরা তাকে আরেকটু নৈতিক সমর্থন ও সাহস নিশ্চয় দিতে পারি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সক্রিয় থাকুন। বাংলাদেশ তথা গ্রামবাংলার দিনবদলের এই পালাকার আরও বহুদিন আমাদের এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর নিত্যসারথী হয়ে থাকুন। তাঁর এবারের জন্মদিনে আমি সেই প্রত্যাশাই করছি।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

বিদেশ থেকে খালি হাতে ফিরে ড্রাগন চাষে সাফল্য

বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম
বাগানে চাষ করা ড্রাগন হাতে মিরাজুল ইসলাম

মিরাজুল ইসলাম (৩৩)। ১০ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। আকামা জটিলতায় খালি হাতে দেশে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না। এক বছর বেকার থাকার পর ইউটিউবে পতিত জমিতে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখেন। বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নেমে পড়েন ড্রাগন চাষে। দেড় বছরের ব্যবধানে এখন উপজেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান তাঁর। এ বছর খরচ বাদে আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার ইন্দুরকানি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল। উপজেলার টগরা গ্রামে দেড় একর জমিতে তিনি ড্রাগনের বাগান তৈরি করেছেন। তাঁর বাগানে এখন সাড়ে তিন হাজার ড্রাগন ফলের গাছ আছে।

মিরাজুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক হিসেবে ১০ বছর সৌদিতে কাজ করে ২০১৯ সালে দেশে ফেরেন তিনি। আকামা সমস্যার কারণে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে তাঁকে। কিছু একটা করবেন বলে ভাবছিলেন। একদিন ইউটিউবে ড্রাগন চাষের ভিডিও দেখতে পান। সেই থেকে ড্রাগন চাষে আগ্রহ জন্মে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেড় একর পতিত জমি ড্রাগন চাষের উপযোগী করেন। গাজীপুর থেকে ৬০ টাকা দরে ৬০০ চারা নিয়ে আসেন। বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে শুরু করেন চাষাবাদ। পরের বছর জুনে ফল পাওয়া শুরু করেন।

ড্রাগনের বাগান করতে মিরাজুলের খরচ হয়েছিল ছয় থেকে সাত লাখ টাকা। ইতিমধ্যে ফল বিক্রি করে তাঁর খরচ উঠে গেছে। সাধারণত মে থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গাছে ফল আসে। বছরে ছয় থেকে সাতবার পাকা ড্রাগন সংগ্রহ করা যায়। এখন পরিপক্ব ও রোগমুক্ত গাছের শাখা কেটে নিজেই চারা তৈরি করেন। ড্রাগন চাষের পাশাপাশি বাগানে চুইঝাল, এলাচ, চায়না লেবুসহ মৌসুমি সবজি চাষ করেন। এ ছাড়া ড্রাগনের চারাও উৎপাদন করে বিক্রি করেন তিনি।

মিরাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বাগানের বেশির ভাগ গাছে এ বছর ফল ধরেছে। গত মঙ্গলবার বাগান থেকে দেড় টন ফল সংগ্রহ করেছেন। ২৫০ টাকা কেজি দরে ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকারদের কাছে বিক্রি করেছেন। স্থানীয় বাজারে ৩০০ টাকা কেজি দরে ড্রাগন বিক্রি হয়। নভেম্বর পর্যন্ত আরও পাঁচ–ছয়বার বাগান থেকে ফল তোলা যাবে। আশা করছেন, খরচ বাদে এবার আট থেকে নয় লাখ টাকা লাভ থাকবে।

মিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমার বাগান থেকে চারা নিয়ে অনেকে বাড়িতে ও ছাদে ছোট পরিসরে ড্রাগনের বাগান করেছেন। আমি এ পর্যন্ত ৪০ টাকায় দেড় হাজার চারা বিক্রি করেছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণ বয়সের একটি ড্রাগনের চারা রোপণের পর ২৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। এর মৃত্যুঝুঁকি নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিন পরপর সেচ দিতে হয়। বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হয়। ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সার দিতে হয় না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইশরাতুন্নেছা বলেন, মিরাজুল ইসলামকে ড্রাগন চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছে কৃষি বিভাগ। উপজেলায় তাঁর বাগানটি সবচেয়ে বড়। তিনি নিরলস পরিশ্রম করে ছোট থেকে বাগানটি বড় করেছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে সাথি ফসল বাঙ্গি

পেঁয়াজ তুলে নেওয়ার পর পুরো জমি ভরে গেছে বাঙ্গিগাছে। ফলন হয়েছে ভালো। পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা গ্রামে গত শুক্রবার
পেঁয়াজ তুলে নেওয়ার পর পুরো জমি ভরে গেছে বাঙ্গিগাছে। ফলন হয়েছে ভালো। পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা গ্রামে গত শুক্রবার

পাবনার বেড়া উপজেলার বড়শিলা গ্রামের কৃষক সাইদুল ইসলাম তাঁর দুই বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে এবার প্রায় ৪০ হাজার টাকা লোকসান দিয়েছেন। অথচ পেঁয়াজের জমিতেই সাথি ফসল হিসেবে লাগানো বাঙ্গি থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকার মতো লাভ করবেন বলে আশা করছেন। এই বাঙ্গি আবাদে তাঁর কোনো খরচ হয়নি। ফলে পেঁয়াজ আবাদের ক্ষতি পুষিয়ে যাচ্ছে।

সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘বাঙ্গি আবাদ কইর‌্যা যে টাকা পাইল্যাম তা হলো আমাগরে ঈদের বোনাস। পেঁয়াজের দাম না পাওয়ায় আমরা (কৃষকেরা) যে ক্ষতির মধ্যে পড়িছিল্যাম, বাঙ্গিতে তা পুষায়া গেছে। এই কয়েক দিনে ১২ হাজার টাকার বাঙ্গি বেচছি। সব মিলায়া ৫০ হাজার টাকার বাঙ্গি বেচার আশা করতেছি।’

সাইদুল ইসলামের মতো পাবনার বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলার অনেক কৃষক এবার পেঁয়াজের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে বাঙ্গির আবাদ করেন। কৃষকেরা পেঁয়াজ আবাদ করতে গিয়ে বিঘায় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। সেই হিসাবে প্রতি মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাঁদের খরচ হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি। কিন্তু বাজারে সেই পেঁয়াজ কৃষকেরা বিক্রি করতে পেরেছেন প্রতি মণ ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এতে প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদে কৃষকদের এবার ২০ হাজার টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।

কৃষকেরা বলেন, পেঁয়াজের জমিতে সাথি ফসল হিসেবে বাঙ্গি, মিষ্টিকুমড়া, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জমিতে পেঁয়াজ লাগানোর পর তা কিছুটা বড় হলে এর ফাঁকে ফাঁকে এসব সাথি ফসল লাগানো হয়। পেঁয়াজের জন্য যে সার, কীটনাশক, সেচ দেওয়া হয়, তা থেকেই সাথি ফসলের সব চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। ফলে সাথি ফসলের জন্য বাড়তি কোনো খরচ হয় না।

কৃষকেরা বলেন, বাঙ্গিতেই কৃষকের লাভ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। রমজান মাস হওয়ায় এখন বাঙ্গির চাহিদা ও দাম দুই-ই বেশি।

সাঁথিয়ার শহীদনগর গ্রামের কৃষক আজমত আলী জানান, তাঁর জমিসহ এই এলাকার জমি থেকে ৮ থেকে ১০ দিন হলো বাঙ্গি উঠতে শুরু করেছে। এবার বাঙ্গির ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। বাজারে এসব বাঙ্গি আকারভেদে প্রতিটি ৬০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দাম থাকলে এক বিঘা থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি হবে।

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী বলেন, পেঁয়াজের সঙ্গে সাথি ফসলের আবাদ কৃষকদের মধ্যে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ ব্যাপারে তাঁরাও কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কাঁঠালের আইসক্রিম জ্যাম ও চিপস

জাতীয় ফল কাঁঠালের জ্যাম, চাটনি ও চিপস উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) শস্য সংগ্রহের প্রযুক্তি বিভাগের একদল গবেষক। তাঁরা কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাত করে মোট ১২টি প্যাকেট ও বোতলজাত পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

গত শনিবার বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিনা) ‘কাঁঠালের সংগ্রহত্তোর ক্ষতি প্রশমন ও বাজারজাতকরণ কৌশল’ শীর্ষক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে এবং নিউভিশন সলিউশন্স লিমিটেডের সহযোগিতায় গবেষণা প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।

কর্মশালায় ড. মো. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, ‘এই প্রকল্পের আওতায় আমরা কাঁঠালের প্রক্রিয়াজাত করে মুখরোচক ১২টি প্যাকেট ও বোতলজাত পণ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এসব পণ্য উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। কাঁঠালের জ্যাম, আচার, চাটনি, চিপস, কাটলেট, আইসক্রিম, দই, ভর্তা, কাঁঠাল স্বত্ব, রেডি টু কুক কাঁঠাল, ফ্রেশ কাট পণ্যসহ আরও বিভিন্ন ধরনের প্যাকেটজাত পণ্য তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো ঘরে রেখে সারা বছর খাওয়া যাবে। কাঁঠাল থেকে এসব পণ্য উদ্ভাবনের মধ্য দিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষক।’

কর্মশালায় নিউভিশন সলিউশন্স লিমিটেডের মুখ্য পরিদর্শক তারেক রাফি ভূঁইয়া বলেন, উদ্ভাবিত পণ্যগুলো বাজারজাত করার জন্য নিউভিশন কোম্পানি বিএআরআইয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। ময়মনসিংহসহ বাংলাদেশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলা শহরে পণ্যগুলো বিপণনের কাজ চলছে।

কর্মশালায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্য সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি বিভাগের বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. হাফিজুল হক খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মির্জা মোফাজ্জল ইসলাম। সম্মানিত অতিথি ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সিনিয়র স্পেশালিস্ট (ফিল্ড ক্রপস) ড. নরেশ চন্দ্র দেব বর্মা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আবু হানিফ। উপস্থিত ছিলেন নিউভিশন সলিউশন্স লিমিটেডের প্রকল্প ম্যানেজার কায়সার আলম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কমলা চাষে সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, আগাছা ব্যবস্থাপনা ও ফসল তোলা- দা এগ্রো নিউজ

কমলা

সার ব্যবস্থাপনা:  প্রতি গর্তে ১০০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার ও এমওপি সার ১০০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হয়।

সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:  চারা গাছের গোড়ায় মাঝে মাঝে পানি সেচ দিতে হবে। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে পানি না জমে সেজন্য পানি নিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া কমলা গাছের আগাছা দমন করতে হবে।

ফসল তোলা: মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য পৌষ মাসে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@agronewstoday.com, theagronewsbd@gmail.com